মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৬ পূর্বাহ্ন
মামুন আহমেদ, বানারীপাড়া :: দু’মাস বেতন-ভাতা না পাওয়ায় বানারীপাড়ায় চাখার ইউনিয়নের চাউলাকাঠি ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার ২৩ শিক্ষক-কর্মচারীর পরিবার মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। ওই পরিবারগুলোর সদস্যদের চোখে নেমে এসেছে অমানিশার ঘোর অন্ধকার।
জানা গেছে, চাউলাকাঠি ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার গভর্নিং বডির কমিটি না থাকায় ওই মাদরাসার ২৩ শিক্ষক ও কর্মচারীর বেতন-ভাতা বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে তিনশ’ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদনবিহীন পকেট গভর্নিং কমিটি দেখিয়ে বেআইনি অঙ্গীকার নামা দাখিল করে রূপালি ব্যাংক বানারীপাড়া উপজেলা শাখা থেকে বেতন-ভাতা তোলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন তারা।
অভিযোগ রয়েছে ওই অঙ্গীকারনামা দিয়ে এর আগে দু’বছর বেআইনীভাবে বেতন-ভাতা উত্তোলন করেন তারা। এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিলে শিক্ষা সচেতন স্থানীয় ইউপি সদস্য ও উপজেলা যুবলীগ নেতা মেজবাউদ্দিন সোহেল ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পরে গত আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের বেতন-ভাতা তুলতে ব্যর্থ হন ওই ২৩ শিক্ষক-কর্মচারীরা।
তবে পবিত্র ঈদুল আজহার সময় মানবিক কারণে শর্ত সাপেক্ষে তাদের জুলাই মাসের বেতন-ভাতা দেওয়া হয়েছিলো। ওই সময় একশত টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা ফজলুর রহমান অঙ্গীকার করেছিলেন এক মাসের মধ্যে তিনি ব্যাংকে অনুমোদিত কমিটি দাখিল করবেন। কিন্তু তাতে ব্যর্থ হওয়া ও ইউপি সদস্য মেজবাউদ্দিন সোহেলের লিখিত অভিযোগের সত্যতা পেয়ে ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক বেতন-ভাতা বন্ধ করে দেন।
এছাড়া এ বিষয়ে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন হাজার টাকা জমা দিয়ে চাখারের বড় ভৈৎসর গ্রামের শিক্ষানুরাগী মোস্তাফিজুর রহমান টুটুল লিখিত অভিযোগ দাখিল করলে মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফজলুর রহমানকে শোকজ করা হয়।
এ বিষয়ে রূপালি ব্যাংকের বানারীপাড়া উপজেলা শাখার ব্যবস্থাপক মো. মাসুম জানান ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত গভর্নিং বডির পুর্নাঙ্গ কমিটি দাখিল করতে না পারায় তাদের বেতন-ভাতা সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে চাউলাকাঠি ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা ফজলুর রহমান মাদরাসার গভর্নিং বডির অনুমোদিত পুর্নাঙ্গ কমিটি না থাকায় বেতন-ভাতা তুলতে না পারার কথা স্বীকার করে জানান, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কমিটি অনুমোদনের চেষ্টা চলছে।
এদিকে সদ্য অবসরে যাওয়া অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হাইয়ান ও তার দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও উপজেলা যুবলীগ নেতা মেজবাউদ্দিন সোহেল সম্প্রতি নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে বানারীপাড়া সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় মাদরাসার অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও তার দুই সহোদর ছাড়াও শিক্ষা সচিব,ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রেজিস্ট্রার, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান, বরিশাল জেলা প্রশাসক,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং রূপালি ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপকসহ ২২ জনকে বিবাদী করা হয়।
জানা গেছে আগামী ২৪ অক্টোবর বিবাদীদের লিখিত জবাব দিতে বলেছেন আদালত।